সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুর কাজের ভিসায় যাওয়া যায়। যার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিঙ্গাপুর যেতে চাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী এখনো সিঙ্গাপুরে কাজ করছে। বর্তমানে বিদেশ যাওয়ার খরচ বেড়েছে। তাই ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুর যেতে প্রায় ৫ থকে ৬ লক্ষ টাকা লাগে। এছাড়া আরও কিছু ভিসা আছে যেগুলোর মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে যেতে মাত্র ৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা লাগে? কোন ভিসার দাম কত টাকা এবং ভিসা খরচ জেনে ভিসায় আবেদন করতে হবে।
সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা লাগে
মহাদেশের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এশিয়া। এশিয়ার বেশ কয়েক দেশে বিদেশি কর্মিরা কাজ করে। অন্যান্য দেশের থেকে সিঙ্গাপুরের ভিসা খরচ কম থাকায়, বাংলাদেশি প্রবাসীরা সেখানে যায়। সিঙ্গাপুরে বেশ কয়েক ধরনের ভিসা আছে। কাজের ভিসা, মেডিকেল ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা ও টুরিস্ট ভিসা ইত্যাদি। এই সকল ভিসা ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে ভিসার দাম কম বেশি হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে নুন্যতম ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা লাগে।
কোনো শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় মাত্র ২ লাখ টাকার মধ্যেই সিঙ্গাপুর যেতে পারবে। এছাড়া ভিজিটরদের জন্য টুরিস্ট ভিসার খরচও অনেক কম। যাদের কম খরচে সিঙ্গাপুর যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তারা ভিজিট ভিসায় আবেদন করতে পারেন। মাত্র ৩ লাখ টাকার মধ্যেই ভ্রমণের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে পারবেন। আর ২ লাখ টাকা দিয়ে মেডিকেল ভিসা পাওয়া যাবে। ভিসার ধরন অনুযায়ী ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ খরচ হবে।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা লাগে
এটি এক ধরনের কাজের ভিসা। এই ভিসায় কোম্পানি ভিত্তিক কাজ পাওয়া যায়। অন্যান্য ভিসার যেতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার দাম কিছুটা বেশি। কেননা ভিসার দাম কোম্পানির কাজ ও নিয়োগের উপর নির্ভর করে। বর্তমানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুর যেতে সর্বনিম্ন ৬ লাখ টাকা লাগে। ওয়ার্ক পারমিট এর ধরন অনুযায়ী এই ভিসা খরচ ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকাও হতে পারে। আর সরকারি ভাবে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া গেলে মাত্র ৪ লাখ টাকা খরচ লাগবে।
কোন ভিসায় সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা লাগবে?
যত ভালোমানের কাজ পেতে যাবেন, তত ভালো একটি ভিসা প্রয়োজন হবে। আর যেকোনো ভালো ভিসার দাম ও খরচ তত বেশি লাগবে। মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যেই সিঙ্গাপুরের কাজের ভিসা পাওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে উন্নতমানের কাজ পেতে চান তাহলে নুন্যতম ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। তাই সঠিক ভাবে ভিসা ক্যাটাগরি সিলেক্ট করবেন এবং ভালোমানের ও বিশ্বস্ত এজেন্সি দিয়ে ভিসা বানাবেন।
- শ্রমিক ভিসা- ৪ লাখ টাকা।
- লেভার ভিসা- ৪ লাখ টাকা।
- কোম্পানি ভিসা- ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা- ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা।
- ড্রাভিং ভিসা- ৬ লাখ টাকা।
- ইলেকট্রিকাল, মেকানিকাল ও ইলেক্ট্রনিক্স কাজের ভিসা- ৮ লাখ টাকা।
- কৃষি ও ফার্ম ভিসা- ৫ লাখ টাকা।
- ফ্যাক্টরি ও কল- কারখানা ভিসা- ৫ লাখ টাকা।
- সিজনাল ভিসা- ৪ লাখ টাকা।
সিঙ্গাপুর ভিসা খরচ কত টাকা লাগে
ভিসার জন্য প্রথমে আবেদন করতে হবে। এখন কোন ভিসায় আবেদন করবেন এবং সেই ভিসাত ভ্যালু কেমন তার উপর নির্ভর করে ভিসা খরচ লাগবে। সিঙ্গাপুরের উচ্চমানের একটি ভিসা পেতে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাগবে। সাধারণ মানের যেকোনো কাজের ভিসা ৫ লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে। কাজের ধরন ও ভিসা ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর ভিসা খরচ ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা। আরও কম খরচে ভিসা পেতে সরকারি ভাবে আবেদন করবেন।
সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যেতে কত টাকা লাগবে
অনেক দেশ থেকেই সিঙ্গাপুরে টুরিস্ট আসে। সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যেতে ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসায় আবেদন করতে হবে। যাকে ট্রাভেল ভিসাও বলা হয়। অন্যান্য ভিসার থেকে টুরিস্ট ভিসার দাম অনেক কম। সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যেতে নুণ্যতম ২ লাখ টাকা লাগবে। ভিসা মেয়াদ ও কত দিন ভ্রমণ করবেন তার উপর ভিত্তি করে ভিসা খরচ কম বেশি হবে। ভিসার দাম ও যাতায়াত খরচ সহ সিঙ্গাপুর ভ্রমণে যেতে মোট ৪ লাখ টাকা খরচ হবে।
সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা বিমান ভাড়া লাগে
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের রেট বেড়েছে। তাই প্রতিটি বিমানের টিকিটের মূল্য আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে অনেক গুলো ফ্লাইট আছে। বিমানের ধরন অনুযায়ী ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা। সময় অনুযায়ী বিমান ভাড়া পরিবর্তন হবে। তবে ১ লাখ টাকার মধ্যেই সিঙ্গাপুরের বিমান টিকিট পাওয়া যাবে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর যেতে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টকা বিমান ভাড়া লাগে।
সিঙ্গাপুর যেতে কি কি লাগে
চাইলে সিংগাপুর যাওয়া যাবে না। এজন্য অনেক কিছুরই প্রয়োজন হবে। এমন অনেক মাউস্ন আছে, তাদের সঠিক কাগজ পত্র না থাকায় ভিসা আবেদন করতে পারচ্ছে না। ভিসা বানানোর পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো সংগ্রহ করে রাখতে হবে। ভিসা আবেদনের পূর্বে পাসপোর্ট তৈরি করে নিতে হবে। এর পর শিক্ষামূলক ডকুমেন্ট ও কাজের অভিজ্ঞতা স্বরূপ কাগজপত্র জমা দেওয়া লাগবে। সিঙ্গাপুর যেতে যা যা লাগবে নিম্নরূপঃ
- সর্বনিম্ন ৬ মাস মেয়াদী পাসপোর্ট।
- সদ্য তোলা নতুন ছবি।
- এনআইডি বা জন্মসনদের ফটোকপি।
- চাকরির অফার লেটার।
- ভিসা আবেদন পত্র।
- পুলিশ ক্লিয়ারনেস।
- মেডিকেল ডকুমেন্ট।
- কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সনদ।
- ড্রাভিং ভিসা হলে বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স।
সিঙ্গাপুর যেতে এই ডকুমেন্ট গুলো লাগবেই। ভিসার ধরন অনুযায়ী কিছু ডকুমেন্ট কম বেশি হতে পারে। কিছু ভিসার ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক ডকুমেন্ট প্রযোজ্য হতে পারে। মনে রাখবেন পাসপোর্ট এর নুণ্যতম ১টি পাতা ফাখা থাকতে হবে।
সিঙ্গাপুরের ভিসার দাম লাগবে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা। পাসপোর্ট খরচ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যার বিমান ভাড়া প্রায় ১ লাখ টাকা। সকল খরচ মিলিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাগে।
আরও দেখুনঃ